ভারতে ডাক বিভাগের পরিষেবা আরও মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে সরকার এখন ফ্র্যাঞ্চাইজি ও কাউন্টার পোস্টাল সার্ভিস বিস্তারে জোর দিচ্ছে। এমন অনেক এলাকা আছে যেখানে দূরত্ব, জনসংখ্যা বা অবকাঠামোগত কারণে পূর্ণাঙ্গ পোস্ট অফিস খোলা সম্ভব হয় না। সেই ধরনের জায়গায় সাধারণ মানুষও এখন পোস্ট অফিস কাউন্টার চালাতে পারবেন, আর সেটি শুরু করতে লাগবে মাত্র ₹৫,০০০ টাকার সিকিউরিটি ডিপোজিট।
এই উদ্যোগ ইতিমধ্যেই বহু ছোট ব্যবসা, স্টুডেন্ট, পার্টটাইম কর্মী এবং গ্রামাঞ্চলের উদ্যোক্তাদের জন্য দারুণ সুযোগ তৈরি করেছে।
কোথায় এই পোস্ট অফিস কাউন্টার খোলা যাবে?
ডাক বিভাগ সাধারণত এমন জায়গায় ফ্র্যাঞ্চাইজি দেয়—
যেখানে নিকটতম পোস্ট অফিস অনেক দূরে
যেখানে জনসাধারণের চাহিদা তুলনায় পোস্ট অফিস কম
যেখানে নতুন পোস্ট অফিস খোলা বাস্তবে সম্ভব নয়
যাদের ছোট দোকান, স্টেশনারি শপ, মোবাইল সার্ভিস সেন্টার কিংবা ব্যস্ত বাজার এলাকায় জায়গা আছে—তাদের জন্য এটি বাড়তি আয়ের সুযোগ।
কী কী পরিষেবা দিতে পারবেন?
একটি ছোট পোস্টাল কাউন্টার থেকেও বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিষেবা দেওয়া যায়, যেমন—
স্পিড পোস্ট ও রেজিস্টার্ড পোস্ট বুকিং
স্ট্যাম্প, এনভেলপ ও পোস্টাল স্টেশনারি বিক্রি
মানি অর্ডার পরিষেবা
পোস্টাল বিল পেমেন্ট
ছোটখাটো সরকারি পরিষেবার সহায়তা
ই–কমার্স পার্সেল বুকিং (অনেক ক্ষেত্রে)
প্রতিটি সার্ভিসের জন্য নির্ধারিত কমিশন থাকে, যেটি থেকেই পুরো আয় তৈরি হয়।
কত ইনকাম হতে পারে?
অনেকেই শুরুর প্রথম কয়েক মাসে কম আয় করেন, কারণ গ্রাহক বাড়তে সময় লাগে। তবে জায়গা ভালো হলে এবং পরিষেবা দ্রুত দেওয়া গেলে মাসে—
₹৩০,০০০ থেকে ₹৫০,০০০
অবধি আয় হওয়া একদমই সম্ভব।
স্পিড পোস্ট, রেজিস্টার্ড পোস্ট এবং ই–কমার্স পার্সেলের বুকিং বেশি হলে আয় স্বাভাবিকভাবেই বাড়ে। পাশাপাশি দোকানে অন্য পণ্য বিক্রির সঙ্গেও এই কাউন্টার চলানো যায়, অর্থাৎ ডাবল ইনকাম।
মাত্র ৫,০০০ টাকায় কীভাবে শুরু করবেন?
অনেকে ভাবেন পোস্ট অফিস মানে বড় সেটআপ, অনেক কাগজপত্র—কিন্তু এই ফ্র্যাঞ্চাইজি মডেলটি তুলনামূলকভাবে সহজ। ধাপে ধাপে প্রক্রিয়াটি এমন—
১. এলাকা যোগ্য কি না যাচাই করুন
স্থানীয় পোস্টমাস্টার বা সাব ডিভিশনাল অফিসে গিয়ে জেনে নিন আপনার লোকেশন পোস্টাল কাউন্টার-এর জন্য অনুমোদিত কি না।
২. আবেদন ফর্ম সংগ্রহ ও জমা
India Post-এর ফ্র্যাঞ্চাইজি ফর্ম অনলাইনে বা নিকটস্থ পোস্ট অফিসে পাওয়া যায়।
জমা দিতে হবে—
পরিচয়পত্র
ঠিকানার প্রমাণ
আপনার জায়গার ডকুমেন্ট/ভাড়া চুক্তি
ছবি
মৌলিক ব্যক্তিগত তথ্য
৩. ৫০০০ সিকিউরিটি ডিপোজিট জমা
আপনার আবেদন অনুমোদিত হলে ডাক বিভাগের নির্ধারিত হিসাবে সিকিউরিটি মানি ডিপোজিট করতে হবে। এটি ভবিষ্যতে শর্তসাপেক্ষে ফেরতযোগ্য হতে পারে।
৪. ট্রেনিং ও এগ্রিমেন্ট
ডাক বিভাগ আপনাকে ছোট প্রশিক্ষণ সেশন দেবে—কীভাবে বুকিং নিতে হয়, সিস্টেম ব্যবহার, ডেইলি রিপোর্টিং ইত্যাদি। এরপর একটি চুক্তি (MoU) সই করতে হয়।
৫. কাউন্টার প্রস্তুত করে কাজ শুরু
একটি টেবিল, কম্পিউটার/ল্যাপটপ, প্রিন্টার এবং সামান্য জায়গা হলেই শুরু করা যায়। আলাদা বড় বিনিয়োগের দরকার নেই।
কিছু গুরুত্বপূর্ণ দিক
দোকানটি এমন জায়গায় রাখুন যেখানে মানুষের চলাচল বেশি।
যারা আগে পোস্ট অফিসে যেতেন তাদের জানিয়ে দিন এখন আপনার কাউন্টারে এসব পরিষেবা পাওয়া যাবে।
প্রতিদিন কাজের রিপোর্ট ঠিকভাবে দিতে হবে—এটাই আয়ের হিসাব তৈরি করবে।
ভালো আচরণ ও সময়মতো ডেলিভারি নিশ্চিত করলেই স্বাভাবিকভাবেই গ্রাহক বাড়বে।
Conclusion
কম খরচে স্থায়ী আয়ের উৎস তৈরি করার সুযোগ আজকাল খুব কমই পাওয়া যায়। মাত্র ৫০০০ সিকিউরিটি ডিপোজিট, ছোট্ট একটি জায়গা আর কিছুসময় দিলেই পোস্ট অফিস কাউন্টার হতে পারে চমৎকার একটি ক্যারিয়ার পথ। গ্রাম হোক বা শহর—যেখানে পোস্ট অফিসের উপস্থিতি কম, সেখানেই এই সার্ভিসের চাহিদা বাড়ছে। তাই উদ্যোক্তা হতে চাইলে এবং নিয়মিত মাসিক আয় করতে চাইলে এই সুযোগটি নিঃসন্দেহে বিবেচনা করা উচিত।













