ভারত ও দক্ষিণ আফ্রিকার মধ্যে শুরু হতে চলা পাঁচ ম্যাচের টি২০ সিরিজের আগে সবচেয়ে বড় স্বস্তির খবর হলো শুবমান গিলের দলে ফেরা। সাম্প্রতিক টেস্ট ম্যাচে গলায় চোট পাওয়ার পর তিনি দীর্ঘ পুনর্বাসনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছিলেন। সেই সময় দলের ব্যাটিং লাইন-আপেও কিছুটা ঘাটতি তৈরি হয়েছিল। তবে এবার চিকিৎসা ও ফিটনেস বিশেষজ্ঞদের পর্যবেক্ষণে তিনি সম্পূর্ণ সুস্থ ঘোষণা হওয়ায় ভারত শিবিরে ফের উদ্দীপনা ফিরে এসেছে।
দলের প্রধান কোচ গৌতম গম্ভীর জানিয়েছেন, গিল এখন পুরোপুরি প্রস্তুত এবং তাকে শুধুমাত্র ফিট বলেই নয়, বরং মানসিকভাবে শক্তিশালী বলেও বিবেচনা করা হচ্ছে। কোচের মতে, একজন ওপেনার হিসেবে গিলের উপস্থিতি দলের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ তার ব্যাটিংয়ে স্থিরতা ও আক্রমণ—দুটোই রয়েছে। বিশেষ করে পাওয়ারপ্লে ওভারগুলোতে তার ধারাবাহিক রান করা দলের জন্য বিশাল সম্পদ।
এবারের সিরিজে গিলকে দেওয়া হয়েছে ভাইস-ক্যাপ্টেনের দায়িত্ব। অধিনায়ক হিসেবে থাকছেন সূর্যকুমার যাদব। নেতৃত্বের এই পরিবর্তন ভারতীয় ক্রিকেটে নতুন ছন্দ তৈরির ইঙ্গিত দিচ্ছে। গিলের ওপর দলের আস্থা শুধু ব্যাটসম্যান হিসেবেই নয়, বরং একজন নেতৃত্বদায়ী ক্রিকেটার হিসেবেও বাড়ছে।
গিলের সঙ্গে ওপেনিংয়ে দেখা যেতে পারে তরুণ অভিষেক শর্মাকে। তাদের জুটি নিয়ে ক্রিকেট মহলে যথেষ্ট উচ্ছ্বাস রয়েছে। দুই ব্যাটসম্যানই আগ্রাসী ক্রিকেট খেলেন এবং টপ-অর্ডারে দ্রুত রান তুলে ম্যাচের ভিত গড়ে দিতে সক্ষম। দলের মধ্যে রয়েছে আরও কয়েকজন প্রতিভাবান ব্যাটসম্যান, যারা সিরিজে নিজেদের প্রমাণ করার অপেক্ষায়।
গৌতম গম্ভীর বলেছেন, গিলের অনুপস্থিতি দলের ব্যাটিং ব্যালান্স নষ্ট করেছিল। কিন্তু তার ফিরে আসা ভারতকে আবারও শক্তিশালী অবস্থানে নিয়ে এসেছে। গিল শুধু একজন ওপেনার নয়, বরং চাপের সময়ে ম্যাচ সামলানোর মতো অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান বলেও তিনি দাবি করেছেন।
এদিকে গিলের পাশাপাশি দলে ফিরেছেন হার্দিক পান্ডিয়াও। এতে অলরাউন্ড বিভাগের জোর বাড়বে এবং ডেথ ওভার বোলিং-বিভাগেও নিশ্চয়তা আসবে। ফলে দলটি আগের তুলনায় অনেক বেশি ভারসাম্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে, যা সিরিজের ফলাফলে বড় ভূমিকা রাখতে পারে।
৯ ডিসেম্বর কটক থেকে শুরু হতে চলা সিরিজে নজর থাকবে শুবমান গিলের ওপর। তিনি কি আবারও নিজের পুরনো ক্রিকেটীয় ছন্দে ফিরবেন? তার ব্যাট থেকে কি আসবে আগের মতো ধারাবাহিকতা? ভারতীয় সমর্থকদের চোখ এখন সেই প্রতীক্ষাতেই।













