সাম্প্রতিক সময়ে একটি অদ্ভুত পপ-আপ দেখে অনেক ChatGPT ব্যবহারকারী হতবাক হয়ে পড়েন। কিছু প্রো সাবস্ক্রাইবারের স্ক্রিনে আচমকা ভেসে ওঠে—“গৃহস্থালি বা বাজারের জিনিস কেনাকাটা করুন, Target-এর সঙ্গে সংযোগ করুন।” ব্যবহারকারীদের বড় অংশের কাছে এটি সরাসরি বিজ্ঞাপন বলেই মনে হয় এবং সেই থেকেই শুরু হয় জোরালো বিতর্ক। এতদিন পর্যন্ত যে প্ল্যাটফর্মকে বিজ্ঞাপনমুক্ত বলে মনে করা হতো, সেখানে হঠাৎ কেন এমন শপিং সাজেশন?
বিতর্ক বেড়ে ওঠার পর OpenAI-র প্রোডাক্ট টিমের পক্ষ থেকে জানানো হয়, এটি কোনও বিজ্ঞাপন নয় এবং সংস্থাটি এখনও বিজ্ঞাপনভিত্তিক কোনও পরীক্ষাও চালাচ্ছে না। কোম্পানির দাবি, কিছু ভুল বোঝাবুঝি বা সীমিত পরিসরে পরিচালিত একটি ফিচারের ঝলকই ব্যবহারকারীরা দেখেছেন। তাদের বক্তব্য—যা দেখা গেছে, তা কোনও অর্থেই বাণিজ্যিক বিজ্ঞাপন নয়।
তবে অন্যদিকে OpenAI-র গবেষণা বিভাগের একজন জ্যেষ্ঠ সদস্য স্বীকার করেছেন, শপিং-সংশ্লিষ্ট এমন পপ-আপ সহজেই বিজ্ঞাপন বলে মনে হতে পারে, এবং ব্যবহারকারীদের বিভ্রান্ত করা একেবারেই উদ্দেশ্য নয়। তাই বিতর্কিত ফিচারটি আপাতত বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে ব্যবহারকারীরা কোন সাজেশন দেখতে চান এবং কোনটি বন্ধ রাখতে চান, সে বিষয়ে আরও নিয়ন্ত্রণ দেওয়া হবে বলেও ইঙ্গিত মিলেছে।
এখানে একটি গভীর ব্যবসায়িক হিসেব লুকিয়ে রয়েছে। ChatGPT-র বিপুল সংখ্যক ব্যবহারকারী পরিষেবাটি বিনামূল্যে ব্যবহার করেন। ফলে কোম্পানির ওপর ক্রমাগত চাপ বেড়েছে—কীভাবে প্ল্যাটফর্মটিকে লাভজনক করা যায়। রিটেইল-পার্টনারদের সঙ্গে শপিং সাজেশন বা প্রোডাক্ট রিকমেন্ডেশন যুক্ত করা হলে আয় বাড়তে পারে, তবে একই সঙ্গে ব্যবহারকারীর বিশ্বাসও বজায় রাখতে হবে।
এক সময় OpenAI-র শীর্ষ নেতৃত্ব প্রকাশ্যে জানিয়েছিল যে ChatGPT-কে বিজ্ঞাপনের প্ল্যাটফর্মে পরিণত করার কোনও পরিকল্পনা নেই। ব্যবহারকারীর অভিজ্ঞতাই হবে মুখ্য, এবং তাদের তথ্য বা মনোযোগকে পণ্য হিসেবে ব্যবহার করা হবে না। কিন্তু সাম্প্রতিক ঘটনাটি সেই প্রতিশ্রুতিকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে। ফলে পরিষ্কার বোঝা যাচ্ছে—প্রযুক্তি ও বাণিজ্যের মধ্যকার টানাপোড়েন এখন আরও জটিল হয়ে উঠছে।
ব্যবহারকারীরা যখন দেখছেন যে একটি কনভারসেশনাল এআই হঠাৎ করে কেনাকাটার সাজেশন দিচ্ছে, তখন উদ্বেগ তৈরি হওয়াই স্বাভাবিক। এটি কি সুবিধা, নাকি সূক্ষ্মভাবে ঢুকে পড়া বিজ্ঞাপন—এই দ্বিধা কাটানো কঠিন। এ থেকেই পরিষ্কার, ভবিষ্যতে এমন ফিচার চালু হলে আরও স্বচ্ছ ব্যাখ্যা প্রয়োজন।
সামগ্রিকভাবে, ChatGPT-এর মতো একটি জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মে বাণিজ্যিক উপাদান যুক্ত করা অত্যন্ত সংবেদনশীল সিদ্ধান্ত। কোম্পানিকে তাই ব্যবহারকারীদের আস্থা অটুট রাখতে স্পষ্ট নীতি ও স্বচ্ছতা বজায় রাখতেই হবে। প্রযুক্তির অগ্রগতির সঙ্গে সেই বিশ্বাসটাই হবে সবচেয়ে বড় পরীক্ষা।













