ভেনেজুয়েলায় আবারও অশান্ত পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। রাজধানী কারাকাসে প্রেসিডেন্ট ভবনের কাছাকাছি এলাকায় দীর্ঘ সময় ধরে গুলির শব্দ ও বিস্ফোরণের মতো আওয়াজ শোনা গেছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, ঘটনার সময় আকাশে সন্দেহজনক ড্রোনও দেখা যায়। এই নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
মিরাফ্লোরেস প্যালেস, যেখানে দেশের প্রেসিডেন্টের দপ্তর রয়েছে, তার আশপাশেই এই ঘটনা ঘটে। রাতের দিকে হঠাৎ করেই নিরাপত্তা বাহিনীকে সতর্ক অবস্থায় দেখা যায়। কিছুক্ষণ পরই শোনা যায় একের পর এক গুলির শব্দ। অনেকে জানান, ড্রোন লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। যদিও সরকারি ভাবে এখনো বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।
এই ঘটনার পেছনে রয়েছে ভেনেজুয়েলার টালমাটাল রাজনৈতিক পরিস্থিতি। সম্প্রতি দেশটিতে বড় ধরনের রাজনৈতিক পরিবর্তন হয়েছে। দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকা প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর পতনের পর নতুন নেতৃত্ব এসেছে। সেই থেকেই দেশের ভেতরে ও বাইরে উত্তেজনা বেড়েছে। সরকারপক্ষের আশঙ্কা, বিরোধী গোষ্ঠী বা অসন্তুষ্ট কোনও পক্ষ অশান্তি তৈরি করতে পারে।
ঘটনার পর প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং সাধারণ মানুষকে আতঙ্কিত না হওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে। তবে বাস্তবে বহু মানুষ এখনও ভয়ের মধ্যে রয়েছেন। সামাজিক মাধ্যমে অনেকেই লিখছেন, এমন পরিস্থিতি দেখে তাঁদের মনে হচ্ছে দেশে আবার বড় কোনও সংঘর্ষের আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, রাতের অন্ধকারে যখন গুলির শব্দ শোনা যায়, তখন সবাই ঘরের দরজা বন্ধ করে আতঙ্কে বসে ছিলেন। শিশু ও বৃদ্ধদের নিয়ে পরিবারগুলো সবচেয়ে বেশি চিন্তায় পড়ে যায়। বহু দোকানপাট ও রাস্তাঘাট পরদিন সকালেও প্রায় ফাঁকা দেখা গেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভেনেজুয়েলায় এই মুহূর্তে সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা। নতুন সরকার স্থিতিশীল হতে না হতেই এই ধরনের ঘটনা মানুষের মনে নিরাপত্তাহীনতা আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে। দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক সংকটের সঙ্গে এবার যদি আইনশৃঙ্খলার অবনতি হয়, তাহলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে।
সব মিলিয়ে বলা যায়, প্রেসিডেন্ট ভবনের কাছের এই ঘটনা ভেনেজুয়েলার বর্তমান অবস্থাকে নতুন করে সামনে এনে দিয়েছে। সাধারণ মানুষ এখন শুধু চাইছে শান্তি ও নিরাপত্তা। দেশটি কোন পথে এগোবে, তা অনেকটাই নির্ভর করছে আগামী দিনে সরকারের পদক্ষেপ ও পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার ক্ষমতার উপর।













