
Vijay Diwas 1971: Remembering India’s Historic Victory,Source official website
বিজয় দিবস উপলক্ষে দেশের গৌরবময় ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় আবারও সামনে এসেছে। ১৯৭১ সালের যুদ্ধে ভারতীয় সেনাবাহিনীর বীরত্ব, আত্মত্যাগ এবং মানবিক ভূমিকা আজও জাতির স্মৃতিতে অমলিন। এই দিনটি শুধুমাত্র একটি সামরিক জয়ের স্মরণ নয়, বরং সাহস ও ন্যায়ের পক্ষে দাঁড়ানোর এক ঐতিহাসিক নিদর্শন।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এই বিশেষ দিনে সেই সব সাহসী সেনানীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন, যাঁদের ত্যাগের বিনিময়ে ভারত একটি গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক সাফল্য অর্জন করেছিল। তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে, দেশের নিরাপত্তা ও মানবিক মূল্যবোধ রক্ষায় সেনাবাহিনীর ভূমিকা কতটা গুরুত্বপূর্ণ এবং অনস্বীকার্য।
১৯৭১ সালের যুদ্ধের পটভূমি ছিল অত্যন্ত জটিল। সীমান্তে উত্তেজনা, বিপুল সংখ্যক শরণার্থীর আগমন এবং মানবিক সংকট ভারতের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছিল। সেই সময় ভারতীয় সেনাবাহিনী কেবল কৌশলগত দক্ষতাই নয়, মানবিক দায়িত্ববোধেরও দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিল।
মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই যুদ্ধের পরিণতি নির্ধারিত হয় এবং দক্ষিণ এশিয়ার রাজনৈতিক মানচিত্রে বড় পরিবর্তন আসে। এই বিজয়ের মাধ্যমে একটি নতুন রাষ্ট্রের জন্ম হয়, যা ইতিহাসে এক যুগান্তকারী ঘটনা হিসেবে চিহ্নিত। ভারতের এই ভূমিকা আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রেও স্বীকৃতি পায়।
প্রধানমন্ত্রী তাঁর বার্তায় বলেন, যাঁরা দেশের জন্য প্রাণ উৎসর্গ করেছেন, তাঁদের স্মৃতি জাতিকে সব সময় পথ দেখাবে। তাঁদের ত্যাগ ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে দেশপ্রেম, শৃঙ্খলা এবং কর্তব্যবোধে উদ্বুদ্ধ করবে। এই স্মরণ শুধুই আনুষ্ঠানিক নয়, বরং জাতীয় চেতনাকে আরও শক্তিশালী করে।
বিজয় দিবস আজকের প্রেক্ষাপটেও গুরুত্বপূর্ণ। জাতীয় নিরাপত্তা, সীমান্ত সুরক্ষা এবং আঞ্চলিক শান্তি বজায় রাখতে অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নেওয়া জরুরি। ঐক্য ও দৃঢ়তার মাধ্যমেই যেকোনো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা সম্ভব—এই বার্তাই এই দিন নতুন করে মনে করিয়ে দেয়।
সবশেষে বলা যায়, বিজয় দিবস গর্ব, কৃতজ্ঞতা এবং দায়িত্ববোধের প্রতীক। ১৯৭১ সালের সেই ঐতিহাসিক বিজয় আজও প্রমাণ করে, সাহস ও ন্যায়ের পথে অবিচল থাকলে ইতিহাসের গতিপথ বদলানো যায়।












