
West Bengal Renames Job Scheme as Mahatma Shree,Photo Credit: ANI
পশ্চিমবঙ্গ সরকার রাজ্যের নিজস্ব গ্রামীণ কর্মসংস্থান প্রকল্পের নাম পরিবর্তন করে নতুনভাবে “মহাত্মা শ্রী” রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। রাজ্য প্রশাসনের মতে, এই নামকরণের মাধ্যমে জাতির পিতা মহাত্মা গান্ধীর আদর্শ ও কর্মভাবনাকে সম্মান জানানোই মূল উদ্দেশ্য। সম্প্রতি কেন্দ্রীয় স্তরে গ্রামীণ কর্মসংস্থান সংক্রান্ত আইনের নাম ও কাঠামোয় পরিবর্তন আসার পরই রাজ্যের এই সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে বিশেষ তাৎপর্য পেয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, মহাত্মা গান্ধীর নাম দেশের কর্মসংস্থান প্রকল্প থেকে সরিয়ে দেওয়া রাজ্যের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়। তাঁর মতে, গান্ধীজি শুধু একটি নাম নন, তিনি গ্রামীণ ভারতের আত্মনির্ভরতার প্রতীক। তাই রাজ্য সরকার নিজস্ব উদ্যোগে যে প্রকল্প চালাচ্ছে, তার সঙ্গে গান্ধীজির নাম যুক্ত করে এক ধরনের নৈতিক অবস্থান তুলে ধরাই এই সিদ্ধান্তের মূল লক্ষ্য।
নতুন “মহাত্মা শ্রী” প্রকল্পটি আসলে আগের “কর্মশ্রী” প্রকল্পেরই সম্প্রসারিত রূপ। এই প্রকল্পের মাধ্যমে গ্রামীণ এলাকার দরিদ্র ও কর্মহীন পরিবারগুলিকে বছরে নির্দিষ্ট সংখ্যক দিনের কাজের সুযোগ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। রাস্তা নির্মাণ, জলাধার সংস্কার, সেচব্যবস্থা উন্নয়ন ও অন্যান্য জনকল্যাণমূলক কাজে স্থানীয় মানুষদের যুক্ত করার কথাও বলা হয়েছে।
রাজ্য সরকারের দাবি, কেন্দ্রীয় সহায়তা বন্ধ থাকলেও সাধারণ মানুষের স্বার্থে এই প্রকল্প চালু রাখা তাদের দায়িত্ব। অর্থনৈতিক চাপ থাকা সত্ত্বেও রাজ্য তহবিল থেকেই কর্মসংস্থান নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে। প্রশাসনের বক্তব্য, কাজের বিনিময়ে আয় নিশ্চিত হলে গ্রামীণ অর্থনীতি কিছুটা হলেও স্থিতিশীল থাকবে।
এই নাম পরিবর্তনকে ঘিরে রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়াও কম নয়। শাসক দল একে ঐতিহাসিক মূল্যবোধ রক্ষার পদক্ষেপ বলে ব্যাখ্যা করলেও বিরোধীদের একাংশ এটিকে রাজনৈতিক বার্তা দেওয়ার কৌশল হিসেবে দেখছে। তবে রাজ্য সরকারের তরফে বলা হচ্ছে, এখানে রাজনীতির চেয়ে মানুষের জীবিকা বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
গ্রামীণ এলাকার বহু মানুষের কাছেই এই সিদ্ধান্ত আশার বার্তা নিয়ে এসেছে। দীর্ঘদিন ধরে কাজের অভাব ও অনিশ্চিত আয়ের কারণে সমস্যায় থাকা পরিবারগুলি মনে করছে, নতুন নামে হলেও প্রকল্পটি যদি নিয়মিত ও স্বচ্ছভাবে চলে, তাহলে তাদের জীবনে কিছুটা স্বস্তি ফিরতে পারে।
আগামী দিনে “মহাত্মা শ্রী” প্রকল্প কতটা কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হয়, সেটাই এখন মূল প্রশ্ন। কাজের সংখ্যা, মজুরি প্রদান এবং প্রকল্পের স্বচ্ছতা বজায় থাকলে এই উদ্যোগ রাজ্যের গ্রামীণ কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছেন অনেকেই।












