
West Bengal Voter List Review Highlights Major Discrepancies,Source: social media
পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকা হালনাগাদের জন্য বিশেষ রিভিশন প্রক্রিয়া (SIR) চলাকালীন প্রথম ধাপে তথ্যগত অসামঞ্জস্য ধরা পড়েছে। খসড়া তালিকা প্রকাশের পর দেখা গেছে, মোট ভোটারের সংখ্যা কমেছে, যা নিয়ে নির্বাচন কমিশন উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। বিভিন্ন জেলার তালিকায় পিতামাতার নাম, বয়স, লিঙ্গসহ অন্যান্য তথ্যের ভুলের কারণে এই ঘাটতি লক্ষ্য করা গেছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সীমান্তবর্তী জেলা গুলোতে সবচেয়ে বেশি অসামঞ্জস্য পাওয়া গেছে। মালদা, মুর্শিদাবাদ, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা এবং নদিয়ার ভোটার তালিকায় ভুলের হার অন্য জেলায় তুলনামূলকভাবে বেশি। পিতামাতার বয়সের সঙ্গে ভোটারের বয়সের মিল না থাকা, নামের ভুল এবং লিঙ্গভিত্তিক অসামঞ্জস্যগুলো সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, দ্বিতীয় ধাপের শুনানি বড়দিনের পর শুরু হবে। দক্ষিণ ২৪ পরগনায় সবচেয়ে বেশি অসঙ্গতি ধরা পড়েছে। পিতামাতার বয়স ও ভোটারের বয়সের ফাঁক দেখা যাচ্ছে, যা তালিকার নির্ভুলতার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। একই সমস্যা নদিয়া, মুর্শিদাবাদ, মালদা ও উত্তর ২৪ পরগনাতেও লক্ষ্য করা গেছে।
কিছু ক্ষেত্রে ভোটারের বয়সের সঙ্গে দাদার বা পিতামাতার বয়সের ফাঁক অস্বাভাবিক। এমন ভুল তথ্য যাচাই না হলে ভোটার তালিকার বিশ্বাসযোগ্যতা ক্ষুণ্ণ হতে পারে। তাই কমিশন এই তথ্যগুলো মনিটর করছে এবং প্রয়োজনে সংশোধন করছে।
প্রথম ধাপে “আনম্যাপড ভোটার” বা পুরনো তালিকার সঙ্গে সংযুক্ত নয় এমন প্রায় ৩১ লাখ ভোটারকে নোটিশ পাঠানো হয়েছে। শিগগিরই বাকি ভোটাররাও নোটিশ পাবেন। এই ভোটারদের জন্য দ্বিতীয় ধাপের শুনানি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, যাতে তালিকায় ভুল তথ্য ঠিক করা যায়।
নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, দক্ষিণ ও উত্তর ২৪ পরগনা, মুর্শিদাবাদ, মালদা ও নদিয়া জেলায় শুরুর দিকে সর্বাধিক শুনানি হবে। জানুয়ারির মধ্যে প্রতিদিনের ভিত্তিতে শুনানির সংখ্যা বৃদ্ধি করা হবে যাতে দ্রুত সংশোধন সম্ভব হয়।
শেষ পর্যন্ত এই প্রক্রিয়ার লক্ষ্য হলো ফাইনাল ভোটার তালিকা নির্ভুল করা, যাতে আগামী লোকসভা ও বিধানসভা নির্বাচনে ভোটার তালিকা আরও স্বচ্ছ ও আধুনিক হয়। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ইতিমধ্যেই তথ্য যাচাই ও সংশোধনের কাজ শুরু করেছেন, যাতে ভোটের সময় কোনো সমস্যার সম্মুখীন হতে না হয়।












