
West Indies Seek Strong Comeback,Source: social media
নিউজিল্যান্ড ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের মধ্যকার তিন ম্যাচের টেস্ট সিরিজের শেষ অধ্যায় শুরু হতে চলেছে মাউন্ট মাউঙ্গানুইয়ের বেয়ার ওভালে। ইতিমধ্যেই সিরিজে এগিয়ে রয়েছে স্বাগতিক নিউজিল্যান্ড, ফলে এই ম্যাচ তাদের কাছে মর্যাদা রক্ষার, আর ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে সম্মান বাঁচানোর লড়াই। আগের টেস্টে বড় ব্যবধানে হারের পর ক্যারিবিয়ান শিবিরে চাপ স্পষ্ট, তবে শেষ ম্যাচে ঘুরে দাঁড়ানোর আশা এখনো ছাড়েনি দলটি।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রধান সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে ব্যাটিং। সিরিজ জুড়েই তাদের টপ অর্ডার ধারাবাহিকভাবে ব্যর্থ হয়েছে, যার ফলে বোলারদের উপর বাড়তি চাপ পড়েছে। অধিনায়ক রস্টন চেস নিজেও স্বীকার করেছেন যে প্রথম ইনিংসে বড় রান না তুলতে পারলে নিউজিল্যান্ডের মতো শক্তিশালী দলের বিরুদ্ধে টিকে থাকা কঠিন। শেষ ম্যাচে ব্যাটারদের দায়িত্ব নিয়ে খেলতে হবে, সেটাই এখন দলের মূল লক্ষ্য।
দলের কয়েকজন তরুণ ব্যাটার সুযোগ পেলেও তা কাজে লাগাতে পারেননি। মাঝের ওভারগুলোতে উইকেট হারানো এবং লোয়ার অর্ডারের দ্রুত ভেঙে পড়া ওয়েস্ট ইন্ডিজকে বারবার বিপাকে ফেলেছে। শেষ টেস্টে ব্যাটিং ইউনিটে পরিবর্তন আসতে পারে, যাতে কিছুটা স্থিতি ফেরানো যায়। দলের সমর্থকরাও চাইছেন অন্তত একটি লড়াকু পারফরম্যান্স।
অন্যদিকে নিউজিল্যান্ড বেশ আত্মবিশ্বাসী অবস্থায় রয়েছে। ঘরের মাঠে তাদের পেস আক্রমণ দারুণ কার্যকর প্রমাণিত হয়েছে। বোলাররা নিয়মিত উইকেট তুলে নিয়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে রেখেছেন। ব্যাটিং বিভাগেও অভিজ্ঞ ও তরুণদের সুন্দর সমন্বয় দেখা যাচ্ছে, যা দলকে বাড়তি শক্তি দিচ্ছে।
নিউজিল্যান্ড শিবিরে কিছু খেলোয়াড়ের ফেরা দলকে আরও ভারসাম্যপূর্ণ করেছে। উইকেটকিপিং থেকে শুরু করে মিডল অর্ডার পর্যন্ত স্থায়িত্ব লক্ষ্য করা যাচ্ছে। স্পিন ও পেস—দুই বিভাগেই বিকল্প থাকায় তারা পরিস্থিতি অনুযায়ী কৌশল বদলাতে পারছে, যা ওয়েস্ট ইন্ডিজের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।
বেয়ার ওভালের পিচ সাধারণত শুরুতে বোলারদের সহায়তা করে, বিশেষ করে পেসারদের জন্য। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ব্যাটিং তুলনামূলক সহজ হয়ে ওঠে, তবে শেষের দিকে স্পিনাররা ভূমিকা রাখতে পারে। আবহাওয়া যদি সহায় হয়, তবে পাঁচ দিনের পূর্ণ ম্যাচ দেখার সম্ভাবনাও রয়েছে।
পরিসংখ্যান ও সাম্প্রতিক ফর্ম সবদিক থেকেই নিউজিল্যান্ডকে এগিয়ে রাখছে, তবে ক্রিকেট অনিশ্চয়তার খেলা। ওয়েস্ট ইন্ডিজ যদি নিজেদের সেরা ক্রিকেট খেলতে পারে, তবে শেষ টেস্টে উত্তেজনার ঘাটতি থাকবে না। সিরিজের ফল যা-ই হোক, এই ম্যাচ দুই দলের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বয়ে আনবে।












