সিভিকের মত “পথবন্ধু ভলেন্টিয়ার” নিয়োগ করতে চায় সরকার, তবে কি কাজ করবে?

সিভিকের মত "পথবন্ধু ভলেন্টিয়ার" নিয়োগ করতে চায় সরকার, তবে কি কাজ করবে?

পশ্চিমবঙ্গে বাড়তে থাকা পথ দুর্ঘটনা রোধ করতে নতুন উদ্যোগ নিতে চলেছে রাজ্য সরকার। দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকাগুলিতে বিশেষ স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগের পরিকল্পনা করা হয়েছে, যাদের বলা হবে “পথবন্ধু”। প্রশাসনের মতে, এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হল দুর্ঘটনার পর দ্রুত সাহায্য পৌঁছে দেওয়া এবং আহতদের প্রাথমিক চিকিৎসা নিশ্চিত করা।

রাজ্যের বিভিন্ন জাতীয় সড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ রাজ্য সড়কে প্রতিদিনই অসংখ্য গাড়ি চলাচল করে। অনেক ক্ষেত্রে অতিরিক্ত গতি, অসাবধানতা বা ট্রাফিক নিয়ম না মানার কারণে দুর্ঘটনার ঘটনা ঘটছে। বিশেষ করে ব্যস্ত সড়ক বা চিহ্নিত বিপজ্জনক মোড়গুলিতে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বেশি থাকে। প্রশাসনের তরফে ইতিমধ্যেই এই ধরনের বহু এলাকাকে দুর্ঘটনাপ্রবণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

সরকারি সূত্রে জানা গেছে, রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় এক হাজারেরও বেশি এমন জায়গা রয়েছে যেখানে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে। এই এলাকাগুলিতেই পথবন্ধুদের নিয়োগ করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। প্রতিটি এলাকায় কয়েকজন করে স্বেচ্ছাসেবক থাকবেন, যারা দুর্ঘটনা ঘটলে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজে সাহায্য করবেন।

প্রশাসনের মতে, অনেক সময় দুর্ঘটনা ঘটার পর প্রথম কয়েক মিনিট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়। সেই সময় যদি দ্রুত প্রাথমিক চিকিৎসা বা সাহায্য পাওয়া যায়, তাহলে অনেক ক্ষেত্রেই প্রাণ বাঁচানো সম্ভব। কিন্তু বাস্তবে দেখা যায়, অনেক সময় আশেপাশের মানুষ কীভাবে সাহায্য করবেন তা বুঝতে পারেন না। ফলে আহতদের হাসপাতালে পৌঁছাতে দেরি হয়। এই সমস্যার সমাধান করতেই পথবন্ধুদের পরিকল্পনা করা হয়েছে।

Also Read:  আপনার ফোন আপনার কথা শুনছে—এটা কি জানতেন? | Turn Off This Google Setting to Protect Your Privacy

এই স্বেচ্ছাসেবকদের বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে বলে জানা গেছে। প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তাদের শেখানো হবে কীভাবে দুর্ঘটনার পরে আহতদের নিরাপদে সরানো যায়, কীভাবে রক্তপাত বন্ধ করা যায় এবং কীভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা দিতে হয়। পাশাপাশি তাদের হাতে ফার্স্ট এইড বক্স দেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে, যাতে জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত চিকিৎসা সহায়তা দেওয়া যায়।

শুধু দুর্ঘটনার সময় সাহায্য করাই নয়, পথবন্ধুরা সচেতনতা বাড়ানোর কাজও করবেন। বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে তারা সাধারণ মানুষকে ট্রাফিক নিয়ম মেনে চলার গুরুত্ব বোঝাবেন। হেলমেট ব্যবহার, সিটবেল্ট বাঁধা এবং গাড়ি চালানোর সময় মোবাইল ব্যবহার না করার মতো বিষয়েও সচেতনতা বাড়ানো হবে।

পথ নিরাপত্তা বাড়ানোর জন্য এর আগেও রাজ্য সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে। অনেক দুর্ঘটনাপ্রবণ রাস্তা বা ব্ল্যাক স্পট চিহ্নিত করে সেখানে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ট্রাফিক নজরদারি বাড়ানো এবং জরুরি পরিষেবা দ্রুত পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থাও জোরদার করা হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকায় প্রশিক্ষিত স্বেচ্ছাসেবক থাকলে অনেক ক্ষেত্রে দ্রুত উদ্ধারকাজ সম্ভব হবে। এতে আহতদের দ্রুত হাসপাতালে পাঠানো যাবে এবং মৃত্যুর হারও কিছুটা কমানো সম্ভব হতে পারে।

Also Read:  সুপারফুড মরিঙ্গা: বাচ্চাদের স্বাস্থ্য ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার জন্য কতটা উপকারী জানলে চমকে উঠবেন | Moringa

সব মিলিয়ে পথবন্ধু নিয়োগের এই পরিকল্পনাকে পথ নিরাপত্তা জোরদার করার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। প্রশাসনের আশা, এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দুর্ঘটনার পরে দ্রুত সাহায্য পৌঁছে দেওয়া সহজ হবে এবং অনেক মানুষের প্রাণ বাঁচানো সম্ভব হবে।


Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top