ডিজিটাল ভোটার কার্ড বানানোর সম্পূর্ণ পদ্ধতি 2026 | ডিজিটাল ভোটার কার্ড বানানোর উপায় | Digital Voter Card

ডিজিটাল ভোটার কার্ড করার উপায়, digital voter card

আপনার কাছে যদি পুরনো কাগজের ভোটার কার্ড থাকে, তাহলে এখন আপনি খুব সহজেই সেটিকে ডিজিটাল ভোটার কার্ডে রূপান্তর করতে পারেন। ভারতের নির্বাচন কমিশন voters.eci.gov.in পোর্টালের মাধ্যমে এই সুবিধা দিয়েছে। নতুন করে ভোটার কার্ড বানানোর জন্য ফর্ম ৬ ব্যবহার করা হয়, কিন্তু যাদের কাছে ইতিমধ্যে ভোটার কার্ড আছে এবং তারা শুধু ডিজিটাল কার্ড বা পিভিসি কার্ড নিতে চান, তাদের জন্য আজকের এই প্রতিবেদনটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে, কারণ এই প্রতিবেদনটি সম্পূর্ণ পড়ার পর আপনি আপনার সাধারণ ভোটার কার্ডকে ডিজিটাল ভোটার কার্ডে রূপান্তর করতে পারবেন। তাই প্রতিবেদনটি শেষ পর্যন্ত অবশ্যই ভালো করে পড়ুন এবং প্রতিবেদনে বলা পদক্ষেপ গুলি প্রয়োগ করুন।

ফর্ম ৮ কী এবং কেন এটি ব্যবহার করবেন?

ফর্ম ৮ হল নির্বাচন কমিশনের সেই ফর্ম যা বিদ্যমান ভোটারদের জন্য প্রযোজ্য। এই ফর্মের মাধ্যমে আপনি তিনটি কাজ করতে পারেন—ঠিকানা পরিবর্তন, ভুল সংশোধন, এবং ভোটার কার্ড প্রতিস্থাপন।

ডিজিটাল ভোটার কার্ড-এর ক্ষেত্রে আমরা ফর্ম ৮-এর তৃতীয় অপশনটি ব্যবহার করব—”Replacement of EPIC” বা ভোটার কার্ড প্রতিস্থাপন। এখানে মনে রাখবেন, আপনার পুরনো কার্ডটি যদি নষ্ট না হয়ে থাকে, তাহলেও আপনি ডিজিটাল কার্ডের জন্য আবেদন করতে পারেন। সেক্ষেত্রে “Lost / Destroyed / Mutilated” অপশনের বদলে আপনি “Issue of Replacement EPIC without correction” অপশনটি পাবেন।

ডিজিটাল ভোটার কার্ডের জন্য কী কী ডকুমেন্ট লাগবে?

ডিজিটাল ভোটার কার্ড-এর জন্য আবেদন করতে নিচের ডকুমেন্টগুলি আগে থেকে তৈরি করে রাখুন—

ডকুমেন্টের ধরনকী কী লাগতে পারে
পরিচয় প্রমাণআপনার পুরনো ভোটার কার্ডের নম্বর (EPIC)
মোবাইল নম্বরযে নম্বরটি ভোটার কার্ডের সঙ্গে লিঙ্ক করা আছে বা করতে চান
ঠিকানার প্রমাণআধার কার্ড, ব্যাংক পাসবুক, বিদ্যুৎ বিল ইত্যাদি (প্রয়োজনে)
ছবিসাম্প্রতিক পাসপোর্ট সাইজের রঙিন ছবি
স্বাক্ষরআপনার সইয়ের স্ক্যান কপি

voters.eci.gov.in পোর্টালে প্রথমে অ্যাকাউন্ট খুলুন

ডিজিটাল ভোটার কার্ড-এর জন্য আবেদন করতে প্রথমে আপনাকে এই পোর্টালে নিজের একটি অ্যাকাউন্ট তৈরি করতে হবে। নিচের ধাপগুলি অনুসরণ করুন—

প্রথম ধাপ: আপনার মোবাইল বা কম্পিউটারের ব্রাউজারে voters.eci.gov.in ঠিকানাটি খুলুন।

দ্বিতীয় ধাপ: ওয়েবসাইটের হোমপেজের উপরের দিকে “Sign Up” বা “নিবন্ধন” লেখায় ক্লিক করুন।

তৃতীয় ধাপ: আপনার মোবাইল নম্বর এবং ইমেল আইডি দিন। পর্দায় যে ক্যাপচা কোড দেখাবে, সেটি সঠিকভাবে বসান।

চতুর্থ ধাপ: “Request OTP” বাটনে ক্লিক করুন। আপনার মোবাইল নম্বরে একটি ওটিপি আসবে। সেটি সঠিকভাবে বসিয়ে ভেরিফিকেশন সম্পন্ন করুন।

Also Read:  MoneyView লোন অ্যাপ ২০২৬: অনলাইন লোন অ্যাপ-এর মাধ্যমে লোন পাওয়ার সম্পূর্ণ গাইড | Online Loan App

পঞ্চম ধাপ: অ্যাকাউন্ট তৈরি হয়ে গেলে, আপনার ইউজারনেম ও পাসওয়ার্ড দিয়ে লগইন করুন।

ফর্ম ৮-এর মাধ্যমে ডিজিটাল ভোটার কার্ডের জন্য আবেদন প্রক্রিয়া

এবার আসল কাজ। নিচের ধাপগুলি সাবধানে অনুসরণ করুন—

প্রথম ধাপ: লগইন করার পর হোমপেজে “Fill Form 8” অপশনটি নির্বাচন করুন।

দ্বিতীয় ধাপ: আপনার রাজ্য, জেলা এবং বিধানসভা কেন্দ্র নির্বাচন করুন। এটি সঠিকভাবে নির্বাচন করা খুবই জরুরি।

তৃতীয় ধাপ: আপনার EPIC নম্বর (ভোটার কার্ডের নম্বর) দিন। এই নম্বরটি আপনার পুরনো ভোটার কার্ডের উপর লেখা থাকে।

চতুর্থ ধাপ: ফর্মের একটি অংশে আপনি কী জন্য আবেদন করছেন, তা নির্বাচন করতে হবে। সেখানে “Issue of Replacement EPIC without correction” অপশনটি নির্বাচন করুন। এই অপশনটি খুঁজে পেতে একটু নিচে স্ক্রল করতে হতে পারে।

পঞ্চম ধাপ: এরপর আপনার ব্যক্তিগত তথ্য—নাম, পিতা বা স্বামীর নাম, জন্মতারিখ ইত্যাদি আগে থেকে ভরা থাকবে। সেগুলো ভালো করে মিলিয়ে নিন। কোথাও ভুল থাকলে সেটি সংশোধনের জন্য আলাদাভাবে আবেদন করতে হবে।

ষষ্ঠ ধাপ: যোগাযোগের তথ্যের অংশে আপনার বর্তমান মোবাইল নম্বর ও ইমেল আইডি দিন। যদি আগে থেকে দেওয়া থাকে, তাহলে সেটা আপডেট করুন।

সপ্তম ধাপ: নিচে স্ক্রোল করে প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট আপলোড করুন। এখানে সাধারণত ছবি ও স্বাক্ষর আপলোড করতে হবে। ছবি আপলোডের সময় আকার ও ফরম্যাট খেয়াল রাখুন।

অষ্টম ধাপ: সব তথ্য ভালো করে দেখে নিন। কোথাও ভুল থাকলে এখনই সংশোধন করে নিন। তারপর “Preview” দেখে নিন। প্রিভিউতে সব তথ্য ঠিক আছে কি না দেখে নিন।

নবম ধাপ: সবকিছু ঠিক থাকলে “Submit” বাটনে ক্লিক করুন।

দশম ধাপ: ফর্ম জমা দেওয়ার পর একটি আবেদন রেফারেন্স নম্বর পাবেন। এই নম্বরটি নোট করে রাখুন। ভবিষ্যতে আবেদনের স্থিতি জানতে এই নম্বর লাগবে। এই নম্বরটি কোথাও লিখে রাখুন বা ছবি তুলে রাখুন।

আবেদন জমা দেওয়ার পর কী হবে?

আপনার ডিজিটাল ভোটার কার্ড-এর আবেদন জমা পড়ার পর নিচের প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হবে—

যাচাই প্রক্রিয়া: আপনার আবেদন জমা পড়ার পর তা যাচাই করা হবে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে কোনো শারীরিক যাচাইয়ের প্রয়োজন হয় না, কারণ আপনি ইতিমধ্যে বিদ্যমান ভোটার। তবে প্রয়োজন হলে বুথ লেভেল অফিসার যোগাযোগ করতে পারেন।

Also Read:  Yubasathi Status: বিরাট সুখবর এবার সবাই পাবে যুবসাথী প্রকল্পের টাকা | কারা আগে টাকা পাবে? মেসেজ এসেছে কিন্তু টাকা ঢোকেনি! দেখুন বিস্তারিত

এসএমএস নোটিফিকেশন: নির্বাচন কমিশন প্রতিটি ধাপে আপনার মোবাইলে এসএমএস পাঠাবে। ফর্ম গৃহীত হওয়া, যাচাই সম্পন্ন হওয়া, কার্ড তৈরি হওয়া—সব ধাপে আপডেট পাবেন। তাই মোবাইল সব সময় চালু রাখুন।

কার্ড প্রস্তুত: সবকিছু ঠিক থাকলে কিছু দিনের মধ্যে আপনার ডিজিটাল ভোটার কার্ড তৈরি হয়ে যাবে। এটি পিভিসি কার্ড আকারে আপনার নিবন্ধিত ঠিকানায় ডাকযোগে পাঠানো হবে। সাধারণত ১৫-৩০ দিনের মধ্যে কার্ড পেয়ে যাবেন।

ডিজিটাল ভোটার কার্ড কীভাবে ডাউনলোড করবেন?

আপনার কার্ড তৈরি হয়ে গেলে আপনি ডিজিটাল ভোটার কার্ড নিজেই ডাউনলোড করতে পারেন। ফিজিক্যাল কার্ড আসার আগেই আপনি ডিজিটাল কপি পেয়ে যাবেন। এর জন্য নিচের পদ্ধতি অনুসরণ করুন—

প্রথম ধাপ: voters.eci.gov.in পোর্টালে লগইন করুন।

দ্বিতীয় ধাপ: “Download e-EPIC” বা “ডিজিটাল ভোটার কার্ড ডাউনলোড” অপশনে ক্লিক করুন।

তৃতীয় ধাপ: আপনার ভোটার কার্ড নম্বর বা আবেদন নম্বর দিন।

চতুর্থ ধাপ: কিছু তথ্য যাচাই করে নেওয়ার পর আপনার ডিজিটাল ভোটার কার্ড পর্দায় দেখাবে। সেখান থেকে ডাউনলোড করে নিন।

পঞ্চম ধাপ: ডাউনলোড করা ফাইলটি পাসওয়ার্ড দিয়ে সুরক্ষিত থাকে। পাসওয়ার্ড হল আপনার জন্মতারিখ (সাধারণত DDMMYYYY ফরম্যাটে)। যেমন আপনার জন্ম যদি ১৫ আগস্ট ১৯৯৫ হয়, তাহলে পাসওয়ার্ড হবে 15081995।

মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমেও আবেদন করা যায়

আপনি চাইলে ভোটার হেল্পলাইন অ্যাপ দিয়েও খুব সহজে ডিজিটাল ভোটার কার্ড-এর জন্য আবেদন করতে পারেন। এই অ্যাপ গুগল প্লে স্টোর এবং অ্যাপল অ্যাপ স্টোরে পাওয়া যায়।

অ্যাপের মাধ্যমে আবেদনের সুবিধা—

  • যে কোনো জায়গা থেকে আবেদন করা যায়
  • ডকুমেন্ট মোবাইল দিয়েই ছবি তুলে আপলোড করা যায়
  • স্ট্যাটাস চেক করা সহজ হয়
  • ডিজিটাল ভোটার কার্ড সরাসরি ডাউনলোড করা যায়
  • অ্যাপে নোটিফিকেশন আসে, তাই খবর রাখা সহজ হয়

বিশেষ কিছু তথ্য মনে রাখবেন

মোবাইল নম্বর লিঙ্ক করা জরুরি: আপনার মোবাইল নম্বর ভোটার কার্ডের সঙ্গে লিঙ্ক করা থাকা আবশ্যক। না থাকলে আগে সেটি করে নিন। ফর্ম ৮-এর মাধ্যমেই মোবাইল নম্বর লিঙ্ক করা যায়। ওটিপি ভেরিফিকেশনের মাধ্যমে মোবাইল নম্বর যাচাই করা হবে।

নামের মিল থাকা জরুরি: আধার কার্ডে যে নাম আছে, ভোটার কার্ডে সেই নাম হুবহু একই থাকা প্রয়োজন। কারণ ই-সই করার সময় আধারের নামের সঙ্গে মিলাতে হবে। নামের বানানে অমিল থাকলে সমস্যা হতে পারে।

আবেদনের স্থিতি জানুন: আপনার আবেদনের স্থিতি জানতে “Track Application Status” অপশনে ক্লিক করে রেফারেন্স নম্বর দিন। এখানে আপনার আবেদন কোন পর্যায়ে রয়েছে তা দেখাবে।

Also Read:  প্রধানমন্ত্রী বিশ্বকর্মা যোজনা ২০২৬: কী এই প্রকল্প? কারা পাবেন সুবিধা? কীভাবে আবেদন করবেন? | PM Scheme | Pm Vishwakarma Yojana bangla

হেল্পলাইন নম্বর: কোনো সমস্যা হলে টোল ফ্রি নম্বর ১৯৫০-এ ফোন করে সাহায্য নিতে পারেন। সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত এই নম্বর চালু থাকে।

আবেদনপত্র সংরক্ষণ করুন: ফর্ম জমা দেওয়ার পর যে কনফার্মেশন পৃষ্ঠা আসে, সেটির প্রিন্টআউট বা স্ক্রিনশট সংরক্ষণ করে রাখুন।

ডিজিটাল ভোটার কার্ডের সুবিধা কী কী?

ডিজিটাল ভোটার কার্ড নেওয়ার বেশ কিছু সুবিধা রয়েছে—

  • এটি মোবাইলে সব সময় সঙ্গে রাখা যায়
  • হারিয়ে যাওয়ার ভয় থাকে না
  • পিভিসি কার্ড বেশি মজবুত ও টেকসই হয়
  • কাগজের কার্ড সহজেই নষ্ট হয়ে যায়, কিন্তু পিভিসি কার্ড দীর্ঘদিন ভালো থাকে
  • প্রয়োজনমতো বারবার ডাউনলোড করা যায়
  • ভোট দেওয়ার সময় ব্যারকোড স্ক্যান করে সহজেই পরিচয় যাচাই করা যায়

উপসংহার

voters.eci.gov.in পোর্টাল ভারতীয় নাগরিকদের জন্য ডিজিটাল ভোটার কার্ড সংক্রান্ত সমস্ত পরিষেবা এক ছাদের নীচে এনে দিয়েছে। উপরের ধাপগুলি অনুসরণ করলে আপনি খুব সহজেই বসে বসে আপনার পুরনো কাগজের ভোটার কার্ডকে ডিজিটাল ভোটার কার্ডে রূপান্তর করতে পারবেন।

মনে রাখবেন, নতুন ভোটার কার্ডের জন্য ফর্ম ৬ ব্যবহার হয়, কিন্তু আপনার কাছে যদি পুরনো কার্ড থেকে থাকে এবং সেটিকে ডিজিটাল করতে চান, তাহলে ফর্ম ৮ এবং তার মধ্যে “Issue of Replacement EPIC without correction” অপশনটি বেছে নেওয়া জরুরি। এই সামান্য বিষয়টি খেয়াল না রাখলে আপনার আবেদন ভুল বিভাগে চলে যেতে পারে।

আজই আবেদন করুন এবং নিজের ডিজিটাল ভোটার কার্ডটি সংগ্রহ করে নিন। এতে আপনার ভোটার পরিচয় থাকবে নিরাপদে, থাকবে সহজলভ্য।


Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top