Purba Bardhaman News: রায়নায় ট্রাক্টর উল্টে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা মৃত্যু ১, আহত ১২

Purba Bardhaman News: রায়নায় ট্রাক্টর উল্টে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা মৃত্যু ১, আহত ১২

Purba Bardhaman News: রবিবার সকালে পূর্ব বর্ধমান জেলার রায়না এলাকায় একটি মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় এক কৃষকের মৃত্যু হয় এবং অন্তত ১২ জন গুরুতর আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
জানা গেছে ওই ওই ট্রাক্টরে মোট ২১ জন কৃষক ছিলেন যারা সকলেই সুন্দরবন অঞ্চলের বাসিন্দা। যারা প্রতিবছরের ন্যায় এই বছরেও রায়নার জাকতা গ্রামে আলু তোলার কাজে যাওয়ার পথে একটি ট্র্যাক্টর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে গেলে এই দুর্ঘটনা ঘটে। ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রবিবার ভোরের দিকে ২১ জন কৃষিশ্রমিক একটি ট্র্যাক্টরে করে রায়নার জাকতা এলাকায় আলু তুলতে যাচ্ছিলেন। ট্র্যাক্টরে মোট ২১ জন শ্রমিক ছিলেন। তারা প্রতিদিনের মতো কাজের উদ্দেশ্যে মাঠের দিকে রওনা দিয়েছিলেন। কিন্তু পথে হঠাৎ করেই ট্র্যাক্টরটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে যায়। মুহূর্তের মধ্যে শ্রমিকরা ট্র্যাক্টর থেকে ছিটকে পড়েন এবং অনেকেই গুরুতরভাবে আহত হন।

বিশ্বজিৎ হালদার নামক এক কৃষক বলেন ট্রাক্টরটি ড্রাইভার খুব দ্রুত চালাচ্ছিল, বারণ করা সত্ত্বেও ড্রাইভার কথা শোনে না। আর যার ফলে ট্রাক্টরটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে গিয়ে এই দুর্ঘটনা ঘটে।

Also Read:  Cricket news, Purba Bardhaman: কৃষকের ছেলে জায়গা পেল IPL-এ, খেলবে কোন দলের হয়?

দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই আশেপাশের গ্রাম থেকে মানুষ ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত উদ্ধারকাজে হাত লাগান। আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে নিকটবর্তী হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। গুরুতর আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে পরে বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

চিকিৎসকেরা সেখানে ৬৯ বছর বয়সি কৃষক মনোরঞ্জন মণ্ডলকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। তিনি বহু বছর ধরে কৃষিকাজের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং মৌসুমি সময়ে এই এলাকায় এসে আলু তোলা বা অন্যান্য কৃষিকাজ করতেন বলে জানা গেছে। তার হঠাৎ মৃত্যুর খবর গ্রামে পৌঁছতেই পরিবারের সদস্য ও আত্মীয়দের মধ্যে শোকের পরিবেশ তৈরি হয়।

অন্যদিকে আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর বলে জানা গেছে। তাদের চিকিৎসা চলছে এবং চিকিৎসকেরা পরিস্থিতির উপর নজর রাখছেন। দুর্ঘটনার পর এলাকায় কিছু সময়ের জন্য উত্তেজনার পরিবেশও তৈরি হয়েছিল। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে, ট্র্যাক্টরটি দ্রুতগতির জন্য ভারসাম্য হারিয়ে উল্টে যায়। রাস্তার অবস্থা, গাড়ির গতি বা অতিরিক্ত যাত্রী—এই সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ট্র্যাক্টর চালকের সঙ্গেও কথা বলা হচ্ছে বলে জানা গেছে।

Also Read:  মধ্যবিত্তের হেঁসেলে বড় সুখবর, কমছে রান্নার তেলের দাম, কিন্তু কতটা?

স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, গ্রামের অনেক শ্রমিকই ভোরবেলা ট্র্যাক্টর বা ছোট গাড়িতে করে মাঠে কাজে যান। অনেক সময় একসঙ্গে অনেক মানুষ ওঠার ফলে গাড়ির ভারসাম্য নষ্ট হয়ে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ে। বিশেষ করে গ্রামীণ কাঁচা বা সরু রাস্তায় এই ধরনের দুর্ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা বেশি থাকে।

এই ঘটনার পর এলাকাবাসী কৃষিশ্রমিকদের নিরাপদ যাতায়াতের বিষয়টি নিয়ে নতুন করে ভাবার দাবি তুলেছেন। তাদের মতে, শ্রমিকদের যাতায়াতের জন্য আরও নিরাপদ ব্যবস্থা থাকা দরকার, যাতে ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা আর না ঘটে।

এদিকে পুলিশ পুরো ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে এবং দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ জানার চেষ্টা করছে। হঠাৎ এই দুর্ঘটনায় একটি পরিবার তাদের প্রিয়জনকে হারিয়েছে, আর আহত শ্রমিকদের দ্রুত সুস্থতার জন্য প্রার্থনা করছেন এলাকার মানুষ।


Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top